শনিবার ১৩ জুন ২০২৬ - ০৮:৩১
ময়দানে জনগণের উপস্থিতিই ইসলামী ব্যবস্থা ও দেশের সবচেয়ে বড় পুঁজি

হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন ড. নাসের রাফিয়ি বলেছেন, আজ ইরানের জাতি আশুরার সংস্কৃতি ও শহীদদের আদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শত্রুদের মোকাবিলায় দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে; আর জনগণের এই উপস্থিতিই ইসলামী ব্যবস্থা ও দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে ১২ দিনের যুদ্ধের শহীদদের প্রথম বার্ষিকী, মরহুম আয়াতুল্লাহিল উযমা ফাইয়ায (রহ.)’র স্মরণসভা এবং আরোপিত ১২ দিনের যুদ্ধের শহীদদের স্মরণে শুক্রবার সন্ধ্যায় পবিত্র হযরত ফাতিমা মাসূমা (সা.আ.)-এর রওজা প্রাঙ্গণে এক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে আলেম, হাওযার শিক্ষক ও তালিবে ইলম, বিভিন্ন দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং ধর্মপ্রাণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন হুজ্জাতুল ইসলাম ড. নাসের রাফিয়ি। তিনি প্রতিরোধ ফ্রন্টের শহীদ কমান্ডারদের শাহাদাতের আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক দিক বিশ্লেষণ করে সাম্প্রতিক আরোপিত যুদ্ধ এবং আমিরুল মুমিনীন ইমাম আলী (আ.)-এর যুগের সিফফিন যুদ্ধের মধ্যে গভীর সাদৃশ্যের কথা তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, “আরোপিত ১২ দিনের যুদ্ধে আমরা এমন কিছু সেনাপতিকে হারিয়েছি, যাদের সঙ্গে সিফফিন যুদ্ধে শাহাদাতবরণকারী বীরদের অনেক মিল রয়েছে।”

ঐতিহাসিক সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি আরও বলেন, “সিফফিনের যুদ্ধে আমিরুল মুমিনীন ইমাম আলী (আ.) তাঁর ৬৩ জন বিশ্বস্ত সেনাপতি ও সহযোদ্ধাকে হারিয়েছিলেন। এই বেদনাদায়ক ঘটনা আজ আমাদের সাম্প্রতিক যুদ্ধগুলোতে হারানো মূল্যবান কমান্ডারদের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।”

শহীদের রক্তের প্রথম ফোঁটা ঝরার সঙ্গে সঙ্গেই তার গুনাহ ক্ষমা করা হয়
কোমের এই হাওযা শিক্ষক ইমাম আলী (আ.)-এর একটি বর্ণনা উল্লেখ করে বলেন, সিফফিনের শহীদদের উদ্দেশে আমিরুল মুমিনীন (আ.) বলেছিলেন,

“তোমরা ক্ষতিগ্রস্ত হওনি; বরং আমরা রয়ে গেছি এবং তোমাদের জন্য দুঃখ করছি।”

হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি বলেন, “আজ আমরাও আমাদের প্রিয় শহীদ সেনাপতিদের উদ্দেশে বলি, আপনারা ক্ষতিগ্রস্ত হননি; বরং ক্ষতিগ্রস্ত আমরা, যারা আপনাদের মর্যাদা ও অবস্থানের প্রতি ঈর্ষান্বিত হই।”

তিনি শহীদ পরিবারের সদস্যদের এবং সাধারণ জনগণের উদ্দেশে বলেন, “শহীদদের জন্য কোনো দুঃখ বা বেদনা নেই; বরং মানুষের উচিত তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হওয়া, কারণ তারা এমন এক মহান মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হয়েছেন।”

তিনি আরও বলেন, “রেওয়ায়াতে এসেছে, শহীদের রক্তের প্রথম ফোঁটা মাটিতে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় এবং তাকে জান্নাতের স্থান দেখানো হয়। কিয়ামতের দিনও শহীদরা আবার পৃথিবীতে ফিরে এসে পুনরায় শাহাদাতবরণ করার আকাঙ্ক্ষা করবে।”

আশুরার সংস্কৃতি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে জনগণ শত্রুদের মোকাবিলা করছে
হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি ইরানের জনগণের ধৈর্য ও অবিচলতার প্রশংসা করে বলেন, “আজ ইরানের জাতি আশুরার সংস্কৃতি ও শহীদদের আদর্শ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে শত্রুদের সামনে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। জনগণের এই সক্রিয় উপস্থিতিই ইসলামী ব্যবস্থা ও দেশের সবচেয়ে বড় পুঁজি।”

আয়াতুল্লাহিল উযমা ফাইয়ায (রহ.)-এর ‘বেলায়েতে ফকিহ’ বিষয়ে ছিল উন্মুক্ত ও সুস্পষ্ট দৃষ্টিভঙ্গি
তিনি তাঁর বক্তব্যের আরেক অংশে মরহুম আয়াতুল্লাহিল উযমা ফাইয়ায (রহ.)-এর ইলম ও ব্যক্তিত্বগত বৈশিষ্ট্যের কথা তুলে ধরেন।

হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি বলেন, “তিনি ছিলেন মরহুম আয়াতুল্লাহ খু’য়ী (রহ.)-এর অন্যতম বিশিষ্ট ছাত্র। ফিকহ ও উসুলুল ফিকহ বিষয়ে তিনি বহু শক্তিশালী ও গভীর গবেষণাধর্মী গ্রন্থ রচনা করেছেন।”

মরহুম ফাইয়ায (রহ.)-এর চিন্তাধারার বিশেষ দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “বেলায়েতে ফকিহের বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল উন্মুক্ত ও সুস্পষ্ট। তিনি ইসলামী শাসনব্যবস্থা নিয়ে আরবি ভাষায় একটি গ্রন্থ রচনা করেছেন, যেখানে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, গবেষণার মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন—গায়বতের যুগে ওয়িলায়াতে ফকিহ প্রতিষ্ঠার জন্য আলাদা কোনো বিশেষ দলিলের প্রয়োজন নেই; বরং তা ফিকহের সাধারণ নীতিমালা ও প্রাথমিক বিধানসমূহের স্বাভাবিক দাবি।”

বক্তব্যের শেষে হুজ্জাতুল ইসলাম রাফিয়ি বলেন, “ধর্মীয় শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক ফিকহের ক্ষেত্রে তাঁর বৈজ্ঞানিক অবদান এবং নবীন চিন্তাধারাসম্পন্ন দৃষ্টিভঙ্গি আরও গভীর গবেষণা ও বিশ্লেষণের দাবি রাখে।”

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha